
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
তারা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই রূপান্তর এখন জরুরি।
রোববার সকালে বাগেরহাটের মোংলার নারিকেলতলা এলাকায় “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)”, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, শিল্পখাতে চাপ এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানির দামের এই অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।
তিনি বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়কেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ছাড়া টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অস্থিরতা খাদ্য, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শ্রমজীবী মানুষের আয় কমিয়ে দিচ্ছে।
সমাবেশে বক্তারা সুন্দরবনসংলগ্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি তৈরি করছে। তবে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
বক্তারা বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থা জনগণকেন্দ্রিক ও গণতান্ত্রিক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি “ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর” নিশ্চিত করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উম্মে রাফিয়া জাহান মিশু, ছবি হাজরা, অ্যাডলিনা পায়েল ও মেহেদী হাসানসহ অন্যরা।
আয়োজকরা জানান, ২৮-২৯ এপ্রিল কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে সামনে রেখে “যুদ্ধ থামাও, পৃথিবী বাঁচাও” শিরোনামে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য করুন