
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নে ৩০ বিঘা আয়তনের একটি চিংড়ি ঘেরের দখল নিয়ে গত বুধবারের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক যুবলীগ নেতা জাকির হাওলাদার।
ওই সংঘাতের জেরে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জনকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তবে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত ‘টর্চার সেল’ খ্যাত সাবেক মেম্বার সুলতান হাওলাদারের ছেলে জাকির এখনো পলাতক থাকায় আজ শুক্রবারও পুরো কানাইনগর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গত বুধবার দুপুরে কানাইনগর এলাকায় ঘেরের মালিকানা ও লিজ নিয়ে মালিক সেলিম রেজা বাচ্চু ও সাবেক লিজগ্রহীতা সেলিম হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মালিক বাচ্চু পূর্বের চাষি সেলিম হাওলাদারের পাওনা টাকা না মিটিয়েই ২০২৬ সালের জন্য ঘেরটি প্রভাবশালী জাকির গ্রুপকে লিজ দেন। বুধবার দুপুরে জাকির হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র যুবক ঘেরের দখল নিতে গেলে প্রতিপক্ষ আ. রশিদ গ্রুপের সঙ্গে তাঁদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২১ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। এর মধ্যে জাকির গ্রুপের হামলায় রশিদ গ্রুপের জাফর ও কাশেম নামের দুই বিএনপি নেতা কুপিয়ে জখম হন, যাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত জাকির হাওলাদার এলাকায় দীর্ঘদিনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ২০২২ সালের এপ্রিলে আসবাবপত্র সরবরাহে দেরি হওয়ায় দুই ভাইকে নিজের তৈরি গোপন ‘টর্চার সেলে’ নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন তিনি।
ওই সময় বাধা দিতে গেলে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ও পৈশাচিক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল জাকিরের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সেই ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে জিম্মি করার ওই ঘটনায় তখন দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চোরাকারবার এবং মদের অবৈধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আসা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির হাওলাদার।
তিনি মোবাইল ফোনে জানান, গত বুধবারের ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই ঘেরটি লিজ নেওয়া হয়েছে , কিন্তু একটি পক্ষ তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং এলাকাছাড়া করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে।
পুরনো মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে এবং ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ ফায়দা লুটতে তাঁর ওপর সব দায় চাপাচ্ছে।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় জমির মালিক বাচ্চুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন