মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মোংলায় বর সাব্বিরসহ ৯ স্বজনের দাফন সম্পন্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
মোংলায় বর সাব্বিরসহ ৯ স্বজনের দাফন সম্পন্ন

বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর আহাদুর রহমান সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রামের পরিবেশ।

শেলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ শিকদার বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। গতকালের দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি-নাতনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে জীবিত আছেন তার তিন ছেলে ও তাদের মা।

স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন । তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিহত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে নিহত মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং মেয়ে আরফা ও ইরাম। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ। তার বাড়ি রামপাল উপজেলার জিগির মোল্লা এলাকায়।

অন্যদিকে কনের পক্ষের নিহতরা হলেন— নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

X