
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূর নাম মোমেনা বেগম (৪২)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম। এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বাহিরদিয়া–মানসা ইউনিয়নের মধ্যবাহিরদিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মোমেনা বেগম ওই এলাকার ব্যবসায়ী বিল্লাল খাঁনের স্ত্রী। বিল্লাল খাঁন স্থানীয় ইউপি সদস্য খাঁন জাহিদ হাসানের আপন ভাই বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিল্লাল খাঁন মানসা বাজারে অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে ঘরের ভেতরে স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি। পরে তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বাহিরদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই ওহিদুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মুখে এবং কানের নিচে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিল-ঘুষি মারার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহতের স্বামী বিল্লাল খাঁন অভিযোগ করে বলেন, আমি বাড়িতে ফিরে দেখি আমার স্ত্রীর মরদেহ ঘরের ভেতরে পড়ে আছে। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বিল্লাল খাঁন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন