সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাইনবোর্ডে ডেন্টাল সার্জনের নাম-পদবি চিকিৎসা দেন হাতুড়ে ডাক্তার !

আশিকুর রহমান শিমুল
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
ছবি-গ্রামের কাগজ

সাইনবোর্ডে ব্যবহার করছেন একজন বিডিএস (ডেন্টাল সার্জন) চিকিৎসকের নাম ও পদবি। আর চেম্বারের ভিতরে রোগী দেখছেন অন্য এক কথিত ডাক্তার। দীর্ঘদিন ধরে রোগীর সাথে এমন প্রতারণা করছেন যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া বাজারের হাজী মার্কেটের ‘হক ডেন্টাল কেয়ার’। তাদের অপচিকিৎকার শিকার হয়েছেন ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি।

চেম্বারের সামনে ঝোলানো সাইনবোর্ডে দাবি করা হয়েছে, এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়া (বিডিএস)। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চেম্বার করেন না। তিনি কেবল মাঝে মধ্যে দু’একবার ভিজিট করতে আসেন, নিয়মিত রোগী দেখা বা চিকিৎসা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত নন।

এর বিপরীতে, চেম্বারের ভেতরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগী দেখছেন আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনিই চিকিৎসা, ওষুধ প্রদান এবং রুট ক্যানেলসহ নানা কর্মকান্ড করে আসছেন। অথচ তার কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি নেই। গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা সাইনবোর্ডে বিডিএস ডাক্তারের নাম দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। অনেকেই বুঝতেই পারছেন না যে তারা একজন অনুমোদিত ডেন্টাল সার্জনের পরিবর্তে একজন হাতুড়ে ব্যক্তির কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি তার অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের তাসলিমা খাতুন, নরেন্দ্রপুরের আকবর আলীসহ অনেকে।

জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজর এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার কৌশল গ্রহণ করেছে। চেম্বারের সামনে একজন নিবন্ধিত বিডিএস ডেন্টাল সার্জনের নাম ও পদবি সম্বলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হন।

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ দাঁতের চিকিৎসা করতে পারেন না। অনোনুমোদিতভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা এ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

এছাড়া, অনুমোদিত চিকিৎসকের নাম ও পদবি ব্যবহার করে রোগীদের বিভ্রান্ত করার বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর প্রতারণা সংক্রান্ত ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে মিথ্যা পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ধারায় (প্রতারণা) শাস্তির বিধান রয়েছে।

রোগী সেজে আনোয়ার হোসেনের কাছে দু’দফা ফোন করে ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়াকে দেখাতে চাইলে জানানো হয় তিনি এদিন চেম্বারে নেই। আগে থেকে সিরিয়াল করে থাকলে ডাক্তার আসলে ফোন করে দেখিয়ে দেবেন। ডাক্তারের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তিনি কেনো রোগী দেখছেন বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে বড় হামলা চালাতে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

যশোরে প্রজাপতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ 

X