
রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের ময়দানে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৫)। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। জাহাঙ্গীর রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে তার বন্ধু মৃদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃদুলও একই সেনাক্যাম্পে কর্মরত এবং তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা।
শুক্রবার (২২ মে) খবরটি জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত জাহাঙ্গীর ছিলেন কান্দাইল বাগপাড়া গ্রাম এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি আড়াই বছরের এক সন্তানের বাবা এবং তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় ছিলেন।
পরিবারের দাবি, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় নেওয়া হয় এবং পরে তাকে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। তিনি করিমগঞ্জের জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মৃদুলের ভিডিও বার্তা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৮ মে রাশিয়া–নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলা হয়। এ ঘটনায় চার বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান। ঘটনার সময় মৃদুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে নিশ্চিত হয়ে তিনি জাহাঙ্গীরের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল অভিযোগ করেন, ‘এমন দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি। তাদের প্রতারণার কারণেই আমরা তিনজন বন্ধুকে হারালাম।’
জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই মো. রমজান বলেন, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে একটি কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে প্রথমে তাকে একটি পিগ ফার্মে কাজ দেওয়া হয়। মাসখানেক কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে তাকে রেস্টুরেন্টে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরে জাহাঙ্গীরসহ সাত বাংলাদেশিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয় সংশ্লিষ্ট এজেন্সি। প্রায় দুই মাস প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধে পাঠানো হয় তাদের। এর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ড্রোন হামলায় নিহত হন জাহাঙ্গীরসহ তিনজন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। জাহাঙ্গীর হোসাইনের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, ‘আমি জাহাঙ্গীরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি মারা গেছেন।’
এর আগে ২ মে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে।
মন্তব্য করুন