
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপির ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে বাস্তব সমস্যার কোনো সমাধান দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার কার্ড বিতরণের মতো কর্মসূচিতে এতটাই ব্যস্ত যে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “এসব কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে জ্বালানি সংকট না থাকার দাবি করলেও বাস্তবে দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে এবং সরকার তা অস্বীকার করছে।
বক্তব্যে তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, সরকার এ বিষয়েও বাস্তবতা অস্বীকার করছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। আমাদের দাবি একটাই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে প্রকৃত সম্মান দেওয়া। এ দাবি আদায়ের জন্য আমরা সংসদে যেমন থাকব, রাজপথেও থাকব, ইনশাআল্লাহ।’
এনসিপির এই আহ্বায়ক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা নিয়েছিল, দেশে আর নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি প্রতি পদে পদে সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে ঐকমত্য কমিশনে আসে এবং সেখানে এসেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে নোট অব ডিসেন্ট দিতে থাকে। সবশেষে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের চাপে তারা গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপি আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের গণভোটকে অস্বীকার করছে। কার্যত বিএনপি তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।’
নাহিদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণ শুরু করেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে তারা একই পথে এগোচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো দেশকে পুরোনো স্বৈরাচারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আবারও দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
মন্তব্য করুন