
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মন্তব্য করেছেন যে, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকতে পারেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে তিনি পদত্যাগ করেননি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছেও কোনো পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন— যদি পদত্যাগ না হয়ে থাকে, তবে সংবিধান অনুযায়ী কি শেখ হাসিনা এখনও প্রধানমন্ত্রী? তাহলে কি দেশে একাধিক প্রধানমন্ত্রী বা সংসদের অস্তিত্ব রয়েছে?
তার ভাষায়, “একজনকে বিতাড়িত করা হয়েছে, আরেকজন সেই আসনে বসে আছেন—এটি সাংবিধানিকভাবে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান এখনও জাতির জনক ও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিবেচিত।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংবিধানের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।
বিএনপির রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি দল কিছু মূলধনকে পুঁজি করে যে রাজনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে, তা ইতোমধ্যে ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে পুঁজি ইতোমধ্যে ক্ষয় হয়ে গেছে, সেটিকে কেন্দ্র করে আবারও ৭২-এর সংবিধান নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি। তার দাবি, বিএনপির রাজনীতি, আদর্শ ও শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধানের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি শুধুমাত্র জুলাইয়ের কারণে প্রধানমন্ত্রী, শহীদদের আত্মত্যাগের কারণে প্রধানমন্ত্রী, সংবিধানের কারণে নয়। যারা বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাদের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। পঞ্চম সংশোধনী পুনর্বহালের প্রস্তাবও ৭২-এর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান এখনও জাতির জনক ও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সরকারের একমাত্র বৈধতা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে এসেছে, সংবিধান থেকে নয়।
মন্তব্য করুন