
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদার গ্রেপ্তারের ঘটনা। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনে অতীতের মতোই ‘নিষ্ঠুর কৌশল’ অবলম্বন করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সবসময় জনগণের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করে। তবে ইতিহাস প্রমাণ করে, শেষ পর্যন্ত সেই দমন-পীড়নের ফল উল্টো তাদের দিকেই ফিরে আসে।
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, ‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কি না। লজ্জা, লজ্জা!’
একই ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে ফেসবুকে বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদেক কায়েম। তিনি বলেন, ‘ভোলার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা পুরনো ফ্যাসিবাদী নিপীড়নেরই অনুকরণ। তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে এভাবে বিনা অপরাধে নিজ বাসা থেকে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া কেবল অমানবিক নয়, বরং ভিন্নমত দমনে নবগঠিত সরকারের সুপ্ত মনোবাসনারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরো বলেন, ‘যারা একসময় নিজেরাই ফ্যাসিবাদের শিকার ছিলেন, তাদের শাসনামলে এমন অযৌক্তিক গ্রেপ্তার ও হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জামায়াতকর্মী বিবি সাওদার মুক্তি ও সব ধরনের প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারের মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার দাপটে নিপীড়ন শেষ পর্যন্ত কারো জন্যই শুভ হয় না।’
এর আগে রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন বিবি সাওদা। তিনি জামায়াতে ইসলামীর ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী।
মন্তব্য করুন