
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতি তিশীল রাজনীতিবিদের নাম। যিনি বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষা, সচেতনতা, জ্ঞান-প্রজ্ঞার সাথে অতীতের রাজনৈতিক ইতিবাচক সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করেছেন। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি নতুন স্বপ্ন বুনছেন যশোরবাসীর মনে। তরুণ প্রজন্মও তাকে ঘিরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর। আর এই স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় তাঁর এই দৃপ্ত পদক্ষেপের অগ্রযাত্রাকে আরও প্রত্যয়ী করবে বলেই প্রত্যাশা যশোর তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর সদর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অমিত বর্ষীয়ান রাজনীতিক বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নার্গিস বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছোটবেলা থেকেই তুখোড় মেধাবী। যশোর শহরের ইন্সটিটিউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। এরপর যশোর সেক্রেড হার্ট জুনিয়র হাইস্কুল ও যশোর ক্যান্টনমেন্ট দাউদ পাবলিক স্কুলে কিছুকাল লেখাপড়া করেন। সেক্রেড হার্ট স্কুল থেকে তিনি প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। এসএসসিতে তিনি যশোর বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ২০ জনের মধ্যে স্থান করে নেন। ১৯৯৩-৯৪ সেশনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগে ভর্তি হন। এ বিভাগ থেকে তিনি প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বপূর্ণ গ্রেড সহকারে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তার সহধর্মিণী সোহানা পারভীনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট। তাদের দুইপুত্র সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে আর্শ আরীব ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রাজপথে লাখো তরুণের সাথে সক্রিয় ছিলেন।
অমিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তিনি বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যশোর, খুলনা ও ঢাকার রাজপথের তিনি নিয়মিত মুখ। ধর্মপ্রাণ অমিত শৈশব থেকেই বাস্তবজীবনে ইসলামের অনুসরণ করেন। ছোটদের স্নেহ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করাকে তিনি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করেন। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। প্রতিহিংসামূলক এসব মামলায় যশোর, ঢাকা ও নড়াইলে তিনি সাত বার কারাবরণ করেন। তার বাড়িতে ও চলন্ত গাড়ির ওপর কয়েক দফা হামলা করা হয়। বহুবার তার প্রাণনাশের অপচেষ্টা চালানো হয়। রাজপথে সদা অবিচল অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদ, আবাসিক ছাত্রদের হলের খাবারের মানোন্নয়ন, কেমিস্ট-বায়োকেমিস্ট-অ্যাপ¬াইড কেমিস্ট-মাইক্রোবায়োলজিস্টদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা দাবির আন্দোলনে প্রথমসারিতে থেকে তিনি অংশ নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন বন্যার্তদের সহায়তায় পরিচালিত প্রতিটি ত্রাণ কার্যক্রমে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন। জন্মভ‚মি যশোরের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন আজ অবধি। বিগত করোনা মহামারির সময় জীবনবাজি রেখে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে নিজস্ব উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা সার্ভিস গড়ে তোলেন, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়। নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার, ওষুধ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যশোরবাসীর পাশে দাঁড়ান তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একজন সংস্কৃতিমনস্ক সৃজনশীল মানুষ। তিনি মনে করেন মানুষের সৃজনশীলতা বিকাশে সুস্থধারার সংস্কৃতি চর্চা খুবই সহায়ক। সুস্থ সংস্কৃতিই মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে পারে। তিনি শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক স্তরে থাকতেই শিশু একাডেমীর কবিতা আবৃত্তি, গল্প বলা, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা লেখা প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন এবং কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাডেট কলেজে অধ্যয়নকালীনও তিনি নিয়মিত নাট্যাভিনয়, কৌতুক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি ছিলেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের একদা সেরা নাট্যাভিনেতা ও বিতার্কিক। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের পক্ষে টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি একজন সুবক্তা ও বাগ্মী। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমানে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট ও টেবিল-টেনিসের আন্তঃক্লাস, আন্তঃহাউস ও আন্তঃহল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি শুধু একজন ক্রীড়াপ্রেমীই নন, ক্রীড়া সংগঠকও বটে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে ল্যাবস্ক্যান মেডিকেল সার্ভিসেস লি. নামে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এটি বর্তমানে খুলনা বিভাগের একটি স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক ও কনসাল্টেশন সেন্টার। এছাড়া তিনি দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার অন্যতম পরিচালক। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি যশোর ইন্সটিটিউট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, মেডিসিন ব্যাংক, ঝিনাইদহ এক্স-ক্যাডেটস্ অ্যাসোসিয়েশন ও ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লি. এর আজীবন সদস্য। এছাড়া তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও শহরের ঐতিহ্যবাহী দড়াটানা মাদ্রাসা'র (আল জমিয়াতুল ইসলামিয়া) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং প্রেসক্লাব যশোর, যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও ঢাবি ফোরাম, যশোর এর অন্যতম সদস্য।
সবমিলিয়ে জ্ঞান-প্রজ্ঞা, শিক্ষা-সচেতনতায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নিজেকে তুলে এনেছেন অনন্য উচ্চতায়। পিতা তরিকুল ইসলামের ছায়ার বাইরে এসে নিজেকে বিকশিত করছেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে অতীতের অতীতের ইতিবাচক সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছেন অমিত। তাই শুধু জাতীয়তাবাদী ঘরানাই নয়; সর্বস্তরের যশোরবাসীই তাকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন বুনছেন।
মন্তব্য করুন