
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. তাসনিম জারা তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেছেন। যদিও নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত জয় পাননি, তবুও তিনি এটিকে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।”
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা-৯ আসনে ৪৪,৬৮৪ ভোট পেয়েছেন তাসনিম জারা। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির হাবিবুর রশিদ এর চেয়ে তিনি ৬৬,৫২৮ ভোট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোহাম্মদ জাবেদ মিয়ার চেয়ে ৮,৭৭৬ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন।
ডা. তাসনিম জারা ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনের পর মোটাদাগে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করেছেন। তার বক্তব্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো–
১. জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় বিএনপিকে এবং ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। তাসনিম জারা জানান, গতকাল রাতেই তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছেন। গঠনমূলক শক্তি হিসেবে জনকল্যাণমূলক কাজে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কথা জানান তিনি।
২. নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণে উচ্ছ্বসিত তাসনিম জারা বলেন, নীতিনির্ধারণী টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। কিশোরী ও তরুণীদের প্রতি তার আহ্বান– তারা যেন স্বপ্ন দেখতে ভয় না পায়।
৩. ভলান্টিয়ারদের ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মন খারাপ করার কিছু নেই। মানুষের মন জয় করাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন জয়।
৪. অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হতেই তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন কি না। এ প্রসঙ্গে তার সাফ জবাব, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে।’
৫. তিনি মনে করেন, ক্লিন ক্যাম্পেইনে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব হলেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ভয়ভীতি মোকাবিলায় প্রতিটি বুথে সাহসী এজেন্ট ও সচেতন নাগরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
৬. জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফসল হিসেবে বর্তমান গণতন্ত্রকে দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দল ও নির্বাচন কমিশনকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
৭. ৪৪ হাজার প্লাস ভোটকে একটি বিশাল ‘ফাউন্ডেশন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চায় এবং তারা রাজনীতির পুরোনো ছকটি ভেঙে দিতে পেরেছেন।
সবশেষে নেতা-কর্মীদের মনোবল অটুট রাখতে তাসনিম জারা পুনরায় আশাবাদ ব্যক্ত করে লেখেন, ‘আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’
মন্তব্য করুন