
যশোরের সড়কে দেয়ালে এখনও শোভা পাচ্ছে রঙিন পোস্টার। রিকসা, ইজিবাইকের পেছনেও শহরময় ঘুরছে এ প্রচারণা। যদিও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রচারণা আচরণবিধির লঙ্ঘন। তারপরও ভোটের এক সপ্তাহ আগেও তা অপসারণ করা হয়নি। প্রশাসন বলছে, তারা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
যশোর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের কোর্টের মোড়, মাইকপট্টি এলাকা, চিত্রার মোড়, পোস্ট অফিস চত্বর, সার্কিট হাউজ এলাকা, এমএম আলী রোড, প্যারিস রোড, উপশহর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষ, দাড়িপাল্লা, লাঙল ও হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার, রঙিন পোস্টার, অপচনশীল ব্যানার ও ফেস্টুন গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার দেয়াল এবং বিভিন্ন যানবাহনে সাঁটানো হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীদের অনেকে প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ ব্যবহার করেছেন না।
এগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর বিধি ৭-এর (ক), (খ), (গ) ও (ঞ)উপবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। যেখানে স্পষ্টভাবে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, গাছ, খুঁটি ও যানবাহনে প্রচারণা সামগ্রী সাঁটানো ও অপচনশীল সামগ্রী (পিভিসি) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে রঙিন পোস্টার নিয়ে যশোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো বা রিকসা-ইজিবাইকের পেছনে লাগানো রঙিন পোস্টার তাদের নয়। এটি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ। এ ব্যাপারে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারনার অংশ হিসেবে এ ধরনের কোন স্টিকার আমরা তৈরি করিনি, কারণ আচরণবিধি সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। সেহেতু যে বা যারা এটি করেছেন তারা আমাদের বন্ধু নন। এদের থেকে সতর্ক থাকুন।
এদিকে, এর আগে ২৯ জানুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার এমএম কলেজের পুরাতন ছাত্রাবাসের সামনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসাইন ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার প্রার্থীকে জরিমানা করেন। ছাত্রাবাসের দেয়ালে ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার সাঁটানোর দায়ে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর বিধি ৭(গ) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পাশাপাশি একই এলাকায় ইজিবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোস্টার সাঁটানোর দায়ে জামায়াত প্রার্থীর প্রতিনিধিকে একই আইনে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তবে নির্বাচনকালীন সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনো পর্যন্ত এসকল ব্যানার ও পোস্টার সরানো হয়নি।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জনিয়েছেন, আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার কর্মী-সমর্থক নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড অথবা দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। প¬াস্টিক লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার এবং দুপুর ২টার আগে ও রাত ৮টার পরে মাইক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না উলে¬খ করে তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জেলাজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রসঙ্গত প্রতিবেদটি গত ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট (সাকমিড) ও ইউনেস্কো আয়োজিত “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অখণ্ডতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাফ্যাক্ট-চেকিং” শীর্ষক প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রস্তুত করেছেন প্রতিবেদক । প্রশিক্ষণের একটি অংশ ছিল নির্বাচনী আচরণ বিধি।
মন্তব্য করুন