
কোনো নারী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান বা আমির হতে পারবেন না—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের সঙ্গে আলোচনায় শরিয়া আইন, নির্বাচন, নারী নেতৃত্ব এবং নারী প্রার্থিতা নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমির।
শরিয়া আইন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জটিল এবং জামায়াত দেশের সংবিধান মেনেই নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। তিনি জানান, জনগণের প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করছে দল এবং মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
জামায়াতের নায়েবে আমিরের আগের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানই অনুসরণ করা উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মানবাধিকারকে গুরুত্ব দেয়। কোনো আইন দেশের জন্য উপযোগী হলে তা সংসদেই সিদ্ধান্ত হবে।
নারীদের কর্মঘণ্টা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন নারী পরিবার ও সন্তান লালনপালনের দায়িত্বও পালন করেন। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে কাজ করা তার জন্য কঠিন হতে পারে। তিনি মনে করেন, নারীদের জন্য নমনীয়তার সুযোগ থাকা উচিত। তবে কোনো নারী চাইলে পূর্ণ সময় কাজ করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো নারী প্রার্থী নেই। এটি দেশের সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির কথাও জানান।
কোনো নারী জামায়াতের প্রধান হতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি বলেন, তা সম্ভব নয়। তার মতে, সৃষ্টিগতভাবে নারী ও পুরুষের ভূমিকা আলাদা এবং কিছু দায়িত্ব নারীদের ওপর স্বাভাবিকভাবে বর্তায়।
তবে তিনি বলেন, নারী প্রধানমন্ত্রী বা নারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি তাদের অসম্মান নেই। অতীতে বাংলাদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকার বিষয়েও তিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেননি এবং বলেন, সেটি সংশ্লিষ্ট দলের সিদ্ধান্ত ছিল।
নারীদের রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, বিশ্বের অনেক দেশ এখনও নারী নেতৃত্বকে সেইভাবে গ্রহণ করেনি এবং বিষয়টি নিয়ে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
নারীর কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন সন্তান লালনপালন করেন, একইসঙ্গে তিনি তার কর্মসংস্থানে একজন পুরুষের মতো একই সময় কাজ করেন। আমি মনে করি এটা ন্যায়বিচার নয়। এই সময়টাতে একজন নারীকে সম্মান দেখানো উচিত। এক্ষেত্রে নারীদের এই সুযোগের অভাবে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা বলেছি, যদি কেউ মনে করে তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তবে কোনো নারী যদি পুরো আট ঘণ্টাই কাজ করতে চায় তাহলে সে করতে পারবে।
শ্রীনিবাসন জৈন জানতে চান, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থীর সংখ্যা কতো? জবাবে ডা. শফিক বলেন, না একজনও না। অন্য দলও যে খুব বেশি দিয়েছে সেটা আপনি দেখাতে পারবেন না। কারণ এটা বাংলাদেশের কালচার। আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এসময় পাল্টা প্রশ্ন করেন আল জাজিরার সাংবাদিক। বলেন, “তারা অল্প কিছু হলেও দিয়েছে। আপনাদের মতো শূন্য না। আপনারা একজনকেও দিলেন না কেন?
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এরই মধ্যে উত্তর দিয়েছি। আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা এক দিনে হয়ে যাবে না। আমরা এ বিষয়ে নারীকে অসম্মান করি না।
আল জাজিরার সাংবাদিকের প্রশ্ন, যদি কখনো কোনো নারী চান যে তিনি জামায়াতের প্রধান হবেন, আপনার পদে বসবেন, সেটা কি সম্ভব? ডা. শফিকুর রহমান বলেন, না। এটা সম্ভব না। কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে আলাদাভাবে বানিয়েছেন। আমরা পুরুষরা কখনোই বাচ্চা পালতে পারবো না। আমরা বাচ্চাদেরকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবো না। এটা আল্লাহর দান। যেটা আল্লাহ বানিয়েছেন সেটা আমরা পাল্টাতে পারব না।
নারী যদি পরিবার চালাতে পারে, যদি বাচ্চা পালতে পারে, তাহলে জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না কেন— এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, এমন কিছু জিনিস আছে যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আপনি জানেন সেটা।
এরপর শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, না, আমি আসলে জানি না। জামায়াতের আমির বলেন, কেন জানেন না সেটা আপনি? মা বাচ্চা পয়দা করার পর যে দায়িত্ব পালন করে, সেটা কি আপনি পারবেন? কখনোই না। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
আল জাজিরার পাল্টা প্রশ্ন, কিন্তু গত তিন দশক তো দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারা কি দেশ চালাননি? ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদেরকে অসম্মান করছি না। আমাদের তাতে অসুবিধা নাই।
মেয়েরা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে না? তারা কতো প্রতিষ্ঠানের প্রধান না? তাহলে দেশ চালাতে পারবে না কেন— এসব প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ নারীদেরকে এ পদে যোগ্য মনে করে না। শারীরিকভাবেই এটা সম্ভব না। এটাই সত্য।
আল জাজিরার প্রশ্ন, আপনি বিএনপির (জোটের) অংশ ছিলেন আগে, যেখানে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনি কি মনে করেন না যে, উনি ভালো কাজ করেছেন?
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাঁ। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত না। ওটা ওদের পার্টির সিদ্ধান্ত।
মন্তব্য করুন