
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ একযোগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটে অংশ নেবে—একটি সাধারণ নির্বাচন, অন্যটি গণভোট।
তিনি বলেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামি। দেশের জনগণ গোলামি নয়, আজাদী চায়। বাংলাদেশের যুবসমাজ বুক পেতে দিয়ে প্রমাণ করেছে—অন্যায়, দানবীয় শক্তি কিংবা আধিপত্যবাদের কাছে তারা কখনো মাথা নত করবে না।
সোমবার রাতে মাগুরা জেলা জামায়াতের আয়োজনে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের সব কাঠামো ধ্বংস করেছে। দেশের অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত, বিচার বিভাগ কার্যত অকার্যকর এবং সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর এক দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক, বীমা, করপোরেট সেক্টর ও শিল্পখাতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে জনগণ।
তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইনের চোখে প্রধানমন্ত্রী থেকে পিয়ন—সবার বিচার হবে একইভাবে।
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি জনগণের ভোটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তাহলে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে সম্মান নিশ্চিত করা হবে। নারীদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর কোনো জালিমের হাত পড়তে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে নির্ভরশীল করতে চায় না। বরং সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যাতে তারা গর্বের সঙ্গে নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে পরিচয় দিতে পারে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান মাগুরার দুটি সংসদীয় আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি মাগুরা-১ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল মতিন এবং মাগুরা-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ওরফে এম বি বাকেরকে উপস্থিত জনতার সামনে তুলে ধরেন। পরে প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন