
যশোর সদর–৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের পথে পথে ঘুরে ভোট ও দোয়া চাইছেন। তিনি গ্রামে গ্রামে পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রামনগর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সতীঘাটা বাজারে এক পথসভায় খরিচাডাঙা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে. এম. আজগর আলী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আওয়ামী লীগের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, যতবারই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের দাবি জানিয়েছি, ততবারই বঞ্চিত করা হয়েছে। তরিকুল ইসলামের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলেই কোনো উন্নয়ন করা হয়নি। ভবনের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চায় না।
এ সময় কানাইতলা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও গৃহবধূ রোকসানা খাতুন অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্দেশে বলেন, আপনার পিতা আমাদের এলাকায় রাস্তা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রাস্তায় এখনও ইট বসেনি। আমরা আশা করি, আপনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে রাস্তাটি পাকাকরণ করবেন।
শিক্ষক কে. এম. আজগর আলী, স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও রোকসানা খাতুনের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পিতার মতো আমিও সুযোগ পেলে তাঁর উন্নয়নের ধারাই ফিরিয়ে আনব। আমি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি। মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। সমাজে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।
পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাজুয়া ডাঙায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আপনারা নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। আওয়ামী লীগ আপনাদেরকে তাদের সম্পত্তি হিসেবে ভোগদখল করেছে। কিন্তু আমরা আপনাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। তরিকুল ইসলামের সন্তান হিসেবে এই মাটিতে আমার যতখানি অধিকার, আপনাদের সন্তানদেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে। ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করা ধর্মের কাজ নয়। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকলের একটাই পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি।
এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ফুল ছিটিয়ে ও উলুধ্বনির মাধ্যমে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বরণ করে নেন।
মন্তব্য করুন