
নির্বাচনের ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার সময়সীমাও কাছাকাছি এসে গেছে—মাত্র দুই দিন বাকি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে এখনও অন্তত অর্ধশত আসনের প্রার্থী বণ্টন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোর পুনর্বণ্টন মূল সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টি অতিরিক্ত আসনের দাবি জানানোর কারণে সমঝোতা আরও জটিল হয়েছে। এনসিপি ৩০টি আসনে ছাড় পেয়েও নতুন আসন চাচ্ছে, আর বাংলাদেশ খেলাফত ২০টি আসনের পরও কিছু নতুন আসনের দাবি তুলেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন বণ্টনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা আর সম্ভব নয়, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবারই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই তারিখের মধ্যে না হলে একাধিক প্রার্থীর নাম ব্যালটে থেকে যাবে।
জোটের এক নেতা জানিয়েছেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি এখন ‘হজবরল’ অবস্থায় আছে এবং এ বিলম্ব মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জামায়াতের নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ দল একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নামবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ১১ দল নিয়ে গঠিত জোটের মধ্যে মতবিরোধের কারণে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেছে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে জামায়াত এককভাবে প্রার্থী দিতে চাচ্ছে, কিন্তু শরিক দলগুলো তা মানতে নারাজ। বরিশাল অঞ্চলেও জোটে একই ধরনের জটিলতা রয়েছে।
এনসিপির দাবি অনুযায়ী, তারা ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচন করতে চাচ্ছে, যা আগে ইসলামী আন্দোলন সংরক্ষিত ছিল। জামায়াত এনসিপিকে ঝালকাঠি-২ দিচ্ছে এবং ঝালকাঠি-১ আসন তাদের পছন্দমতো দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন