
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় সপরিবারে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় তিনি শোকসভাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান।
বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শোকসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শোকগাথা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শোকসভায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেবেন না। তবে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শোকবক্তব্য প্রদান করবেন।
শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দোয়া মাহফিল ও শোকসভা ঘিরে পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রবেশপথে একাধিক ধাপে নিরাপত্তা তল্লাশি ও পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। নির্ধারিত আমন্ত্রণপত্র ও কার্ড দেখিয়েই অতিথিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের ভেতরে ছবি তোলা, সেলফি ও হাততালি দেওয়া নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। যারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি, তাদের জন্য বাইরে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মিডিয়াকর্মীদের ক্ষেত্রেও আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দাওয়াতপ্রাপ্ত রিপোর্টার, ক্যামেরাপারসন ও মাল্টিমিডিয়া কর্মীরাই কেবল অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পরদিন ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সে সময় মানিক মিয়া এভিনিউসহ পুরো সংসদ ভবন এলাকা শোকার্ত মানুষের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে তাকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
মন্তব্য করুন