
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে এসে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার গঠন বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ।
সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট–এর নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, আমরা তারেক রহমানকে স্পষ্টভাবে বলেছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী বাইরে এসে যে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছে, সে বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি জানান, তারেক রহমান নিজেই বলেছেন—এই বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। কেবলমাত্র দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।
বজলুর রশিদ আরও বলেন, মত-পথে ভিন্নতা থাকবে, সমালোচনা থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জনগণের প্রশ্নে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা অবস্থা, অর্থনৈতিক সংকট, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, তারেক রহমান বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তিনি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেন।
তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বিশ্বাস থাকবে, সংশয়ও থাকবে। কিন্তু সবাইকে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। জনগণই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়।
বজলুর রশিদ বলেন, আজ আমরা শোকের পরিবেশে এসেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি আপনারা সরকার গঠন করেন, তাহলে আমরাই হয়তো আপনাদের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করব। এ জবাবে তারেক রহমান বলেন, সমালোচনা না থাকলে গণতন্ত্র হয় না। সমালোচনা ও আলোচনাই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়।
বৈঠকের শুরুতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা। বজলুর রশিদ জানান, তারেক রহমানের মাতৃবিয়োগে শোকাহত পরিবার ও বিএনপির প্রতি সমবেদনা জানাতেই মূলত তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, সমাজতান্ত্রিক পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন বাম ও গণতান্ত্রিক দলের শীর্ষ নেতারা।
এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
মন্তব্য করুন