
যশোরে ৬টির মধ্যে চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীতা নিয়ে অসন্তোষ ও অস্থিরতা চলছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিয়ে একদিকে ক্ষোভ,-অন্যদিকে হতাশা বিরাজ করছে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, চারটি আসনে এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে দলটি। এরমধ্যে তিনটিতেই প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। আবার একটিতে রয়েছেন দু’জন প্রার্থী!
গত ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে কেন্দ্রীয় বিএনপি যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করে জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুফতি রশীদ ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয়। পরে রাতে যশোর-১ (শার্শা) ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থীও পরিবর্তন করা হয়। যশোর-৫ আসনে প্রাথমিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। যশোর-১ আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর যশোর-৬ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে বাদ দিয়ে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মনোনয়ন পরিবর্তনের পর যশোর-৫ আসনে ইতিমধ্যে বিক্ষোভ ও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। অন্য দুই আসন কেশবপুর ও শার্শায় রাজপথে মিছিল সমাবেশ না হলেও প্রার্থীদের পক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদের মাঠে নামানো চ্যালেঞ্জ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর- সদরের একাংশ) আসনে আসনে দু’জন বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। একজন বাঘারপাড়ার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার টি.এস আয়ুব। অপরজন অভয়নগরের মতিয়ার রহমান ফারাজী। এ নিয়ে উভয় উপজেলাতেই ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে।
জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যশোর-৫ আসনে ৮৪ হাজার সংখ্যালঘু ভোট আছে। সেই ভোট টানতে পারতেন শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। জমিয়তে উলামার প্রার্থীর পক্ষে এই ভোট আনা হয়তো কঠিন হবে।
এ বিষয়ে মনোনয়নবঞ্চিত শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। দেখি, কী সিদ্ধান্ত আসে। এরপর আমরা বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।’
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। এতে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া কাজী রওনকুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত বাদ পড়লেন। মনোনয়ন পরিবর্তনের খবরে তার অনুসারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও আজাদপন্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মনোনয়নবঞ্চিতদের অনেকেই ক্ষোভ ও আবেগ থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে আশা করছি। কারণ, এই মুহূর্তে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার সুযোগ নেই।’
মন্তব্য করুন