
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে জনগণ একটি উন্নত রাষ্ট্র দেখতে পাচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকার সবসময় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
রাশেদ খান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে আওয়ামী লীগকে বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন এবং সুবিধা দেওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের দূর্বৃত্তরা গুপ্তহত্যা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী আজও আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেন্দ্র করে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি দাবি করলেও তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হ্রাস করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজার ছাত্র ও সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন, এবং তখন নির্বিচারে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রাশেদ খান ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্বাচন হওয়ার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ৫০ জন প্রার্থীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে এবং এরইমধ্যে একজন বিপ্লবী নেতা ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেন, সরকার ও তাদের নিরাপত্তা সংস্থা কেন এ ধরনের ঘটনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রাশেদ খান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের ধরার জন্য এবার অপারেশন ডেভিল হান্ট ২ ঘোষণা করা উচিৎ।
এসময় গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন