
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের রাজনৈতিক ভারকে ইতিহাসের স্তূপ হিসেবে নয়, বরং তা পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চায়। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব ম্যারাথন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই নতুন রাজনৈতিক ধারার ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের দ্বার উন্মোচন করবে। তিনি বলেন, অতীতের রাজনীতি স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা সেই রাজনীতির সমাপ্তি টানতে চাই এবং নতুন বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলব—যা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে থাকবে।
জামায়াত আমির আওয়ামী লীগের শাসনকালের সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা একটি পরিবার ও দলের স্বার্থে সাজানো হয়েছিল। দেশের স্বর্ণযুগের প্রতিশ্রুতি তারা শ্মশান বাংলায় রূপান্তর করেছে এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু স্বাধীনতার পর এক দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে বাকিদের দাসে পরিণত করে। বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস ও মৌলিক মানবাধিকার হরণ তাদের রাজনীতির অংশ।
তিনি রক্ষী বাহিনী ও ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সোনার বাংলা গঠনের কথার পেছনে বিপুল মানবিক বিপর্যয় লুকানো। এছাড়া আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় আসার ধারাবাহিকতা, শাপলা চত্বরের নৃশংসতা ও বিডিআর হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর সেই ধরনের রাজনীতিকে মেনে নিতে চায় না।
ডা. শফিকুর রহমান ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াত কোনো দলীয় বিজয় চায় না, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে বলেন, “কালো টাকার বিনিময়ে মানুষ কেনার দিন শেষ।”
যুবসমাজের শক্তিকে বিশ্বাস করে জামায়াত আমির বলেন, “যুবকরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে এবং শান্তির বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকা শক্তি হবে।” তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী ও তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিজয় দিবস শুধু স্মরণ নয়, নতুন শপথ নেওয়ার দিন—পুরোনো রাজনীতির কবর রচনা করে বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন