রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রিনির ডায়েরি

কোন পথে চলেছি আমরা

মাহমুদা রিনি
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:৪০ এএম
মাহমুদা রিনি

কোথায় চলেছি আমরা! এই চলার গন্তব্য কোথায়? আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তী প্রজন্মের পথচলা কেমন হবে প্রশ্নটা মাথা থেকে বের হতে চায় না, তাই বার বার লিখি। সংবাদপত্র, নিউজচ্যানেল, ফেসবুক যেখানে চোখ পড়ে সবখানে নৃশংস, নারকীয় হত্যাযজ্ঞের তাণ্ডবলীলা। রামিসা, আছিয়াসহ আরও কতশত কোমলমতি শিশু এই হত্যাকাণ্ডের শিকার। ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু (ছেলেমেয়ে), নারী, কিশোরী, তরুণী কেউই এই নৃশংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বনের পশুও ছোট্ট শিশুর সামনে হিংস্রতা ভুলে নত হয় আর বিকৃত কিছু অমানুষ প্রতিনিয়ত তাদের ক্ষত-বিক্ষত করে চলেছে। অবক্ষয়ের কোন পর্যায়ে পৌঁছলে ফুলের মতো শিশুদের এমন ছিন্নভিন্ন করা যায়! পৃথিবীর সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ বাবা-মায়ের কাছে সন্তান। সেই অমূল্য সম্পদ নিষ্পাপ সোনামণিদের উপর এমন নিষ্ঠুর নির্যাতন করার সাহস এরা কীভাবে পায়? কোথায় পায়? সাহস আসে বিচারহীনতা থেকে। অপরাধ যত বড়োই হোক ''কিছু হবে না' এই বিশ্বাস থেকে। আমাদের মনে আছে ২০০৯ সালের দিকে সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ ধরা পড়ে। তেরোজন নারীকে ধর্ষণ ও খুন করে সে। বিচারে মৃত্যুদণ্ড হলেও আজও সে জীবিত। আপিলে বিচার চলছে দীর্ঘদিন ধরে। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট করতে করতে বাইরের থেকে জেলখানায় বরং আরাম-আয়েশে জীবন কাটছে তার। রসু খাঁ সমাজে একজন নয় এমন হাজার হাজার রসু খাঁ আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আছিয়ার খুনি ভিটুশেখ এখনো বহাল তবিয়তে আছে। এরকম দুএকজন ধরা পড়লেও কিছুদিন পর জামিনে বাইরে এসে ধর্ষিতা বা তার পরিবারের সামনে অনায়াস ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়ায় যা দেখা মৃত্যুর চেয়েও কষ্টদায়ক। ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনার যে দীর্ঘ লাইন নিয়ত ঘটে চলেছে তা লেখায় কুলবে না। সর্বকালের নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। বিচার প্রক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে মানুষের জন্য। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধী যদি তার প্রাপ্য শাস্তি পায় তখন সমাজে অপরাধের বিপরীতে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় যেন পরবর্তীতে আর কেউ সেই অপরাধ করতে সাহস না পায়। যখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, নৃশংস অপরাধী পার পেয়ে যায় তখন সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এটা ভেবে নেয়া যায়। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধের গুরুত্ব যেমন কমিয়ে দেয় আবার যে কোনো অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করে। যার বলি হচ্ছে আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা। ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় যদি জামিন না হয়, আপিল করার সুযোগ না থাকে এবং কোনো আইনজীবী যদি ধর্ষকের পক্ষে না দাঁড়ায় তাহলে বছরের পর বছর সময় হয়তো লাগার কথা না। আমি আইন বুঝি না কিন্তু নিষ্পাপ শিশুদের নিরাপত্তার জন্য এটুকু ব্যবস্থা কী থাকা উচিত না? সত্যি কথা বললে আমাদের নিজের গায়ে লাগে। আমরা অপরাধ ঘটার পর সচেতনতার বুলি কপচিয়ে নিজেকে সচেতন নাগরিক প্রমাণ করি। অথচ আমাদের সামনে যখন হাজারো শিশু বিপথগামী হয়, ছোটো ছোটো অপরাধ করে, নেশার জগতে জড়িয়ে পড়ে তখন আমরা নীরবে পাশ কাটিয়ে চলি। একবারও রাষ্ট্রের, সরকারের কিম্বা সমাজের বোধসম্পন্ন মানুষের মাথায় আসে না আজকের পথশিশু বড়ো হয়ে সমাজে কোন ভূমিকা রাখবে? কীভাবে বড়ো হচ্ছে শহরতলীর গরীব বস্তির শিশুরা? রাস্তাঘাটে বেড়ে ওঠা পথশিশুরাই বা কীভাবে বড়ো হয়! দৈনন্দিন শিক্ষায় সে কী শিখছে! ব্যাঙের ছাতার মতো অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্ররা কোন পরিবেশ থেকে আসে বা এখানে তারা কী খায়, কী শেখে? তারা মানুষ হওয়ার সুস্থ দিকনির্দেশনা কীভাবে পাচ্ছে? বড়ো হয়ে তারা কী করবে? এসবের মনিটরিং করে কী কেউ? রামিসার হত্যাকারী সোহেল বরাবরই অপরাধ করে আসছে। ছোটো ছোটো অপরাধ করে অভ্যস্ত হয়ে এবার বড়ো ঘটনা ঘটাতে তার বিবেকে বাঁধেনি। বরং স্ত্রীকেও অপরাধ করতে বাধ্য করেছে। নিশ্চয় তার স্ত্রী একদিনে রাজি হয়নি অপরাধ করতে! তারা অভ্যস্ত ছোটো ছোটো অপরাধ করে। আমাদের ভাববার সময় এসেছে যে আমার সন্তান ভালো মানুষ হচ্ছে ঠিক আছে কিন্তু প্রতিবেশীর সন্তানও মানুষ না হলে আমার সন্তান বাঁচতে পারবে না এটা এখন প্রমাণিত সত্য। গ্রাম পর্যায়ে শিশুদের বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ এবং বাবা-মাকে সতর্ক করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। একদিনে হঠাৎ করে একজন এমন পৈশাচিক খুনি বা ধর্ষক হয়ে ওঠা যেমন সম্ভব নয় তেমনই শুধু আইন করে একদিনে নির্মূল করাও সম্ভব নয় সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া। ছোটো থেকেই যেন অপরাধের সাথে জড়িত হতে না পারে সেইজন্য ঐক্যবদ্ধ সচেতনতা তৈরির বিকল্প এখন আমাদের নেই। চারপাশে রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে শত্রুতা, পাড়ায় পাড়ায় দলাদলি, প্রতিবেশির সাথে মুখ দেখাদেখি বন্ধ, অসহিষ্ণু সমাজ, সাংস্কৃতিক নিষ্ক্রিয়তা এবং বিনোদনহীন পরিবেশে শিশুরা বড়ো অসহায় ভাবে বেঁচে আছে। তাদের খেলাধুলার জায়গা নেই। সংস্কৃতিচর্চা বা বিনোদনের পরিবেশ নেই। বাবা-মায়ের সময় নেই। এরকম বন্দিজীবনে তারা এমনিতেই সুস্থ- সাবলীল সৌন্দর্যে বেড়ে উঠতে পারছে না। তার উপর আমরা যদি তাদের বেঁচে থাকার নিরাপত্তাটুকু না দিতে পারি এর থেকে ব্যর্থতা আর কী হতে পারে? শিশুরা কোথাও নিরাপদ নয়, কন্যাশিশুর জীবন আরও অনিরাপদ। তাদের কথা শোনা, তাদেরকে বোঝার মানসিকতা আজকাল আমাদের নেই। অবহেলায়, অত্যাচারে, অনাদরে বেড়ে ওঠা মানুষ কখনো সুনাগরিক হতে পারে না। অনেক দেরি হলেও আমাদের ভাবতে হবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে। প্রতিটি শিশুর জীবন হোক নিরাপদ, ভয়হীন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

যশোরে প্রজাপতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ 

মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরছিলেন বাবা

২১ বছর পর মালয়েশিয়ার কারাগার থেকে বাড়ি ফিরলেন বাগেরহাটের রতন

মহেশপুরে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য

মোরেলগঞ্জে জেলা পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের মতবিনিময়

সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোরেলগঞ্জে নতুন ডাকবাংলো ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

কেশবপুরে দুই দিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় ২৪ জুলাই শুরু হচ্ছে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট

সুন্দরবনের জেলেদের জন্য প্রথমবার সরকারি খাদ্য সহায়তা, বরাদ্দ ৬৬১.৬৮ টন চাল

মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

X