
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় রূপরেখা প্রণয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অবদান অনস্বীকার্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি থেকে শুরু করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আধুনিকায়ন এবং বর্তমানে দেশনায়ক তারেক রহমানের ‘রাষ্ট্রমেরামত’ ও ‘টেক-ইউথ’ দর্শন সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর এক স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
শহীদ জিয়া: আধুনিক বিজ্ঞানের স্বপ্নদ্রষ্টা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হয়। গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে তিনি যে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, সেটিই মূলত আজকের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রথম সোপান। তাঁর ঘোষিত ‘১৯দফা’ কর্মসূচির লক্ষ্যই ছিল জাতিকে জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া: তথ্য প্রযুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি
নব্বইয়ের দশকে এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ১৯৯২ সালে তাঁর আমলেই বাংলাদেশে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল (ঝঊঅ-গঊ-ডঊ ৩) সংযোগের সুযোগ এসেছিল, যা তৎকালীন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হলেও তাঁর পরবর্তী শাসনামলে প্রযুক্তির প্রসার ঘটে অভাবনীয় গতিতে। তাঁর সরকারের সময় আইসিটি মন্ত্রণালয় গঠন, কম্পিউটার আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার এবং মোবাইল ফোনের মনোপলি ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিয়ে আসা ছিল এক সাহসী পদক্ষেপ। তিনি ‘ভিশন ২০৩০’ এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উচ্চ-আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তার অন্যতম স্তম্ভ ছিল আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ।
তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা: ‘উন্নয়ন ৪.০’ ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র মেরামত
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত যুগোপযোগী। তাঁর ঘোষিত ‘৩১দফা’ রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখায় আইসিটি খাতকে কেবল একটি সেবাখাত হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
তার নির্দেশনায় প্রণীত আইসিটি রূপরেখার মূল লক্ষ্য হলো ‘উন্নয়ন ৪.০’। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
● স্মার্ট ইকোনমি : ব্লকচেইন, এআই এবং বিগডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।
● কর্মসংস্থান ও আউটসোর্সিং : আগামী ৫ বছরে ১০ লক্ষ নতুন আইসিটি নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রেমিট্যান্স আহরণ প্রক্রিয়া সহজতরকরা।
● ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব : নিজস্ব ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
● পেপারলেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন : সরকারি সেবাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজড করে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল প্রশাসন গড়ে তোলা।
শহীদ জিয়ার হাতে শুরু হওয়া আধুনিকায়নের স্বপ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে এবং আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে। বিএনপি’র আইসিটি দর্শন কেবল সস্তা স্লোগান নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা। যদি মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তারেক রহমানের এই ‘ইনক্লুসিভ’ ও ‘টেক-ফরোয়ার্ড’ রাজনৈতিক দর্শনই হতে পারে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের চাবিকাঠি।
লেখক : ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (এটুআই) এবং উন্নয়নকর্মী।
মন্তব্য করুন