মঙ্গলবার
১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

ইজতেমা সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে সরব ওলামা-মাশায়েখ, দ্রুত বিচারের দাবি

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ছবি-সংগৃহীত

টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় নাম আসা বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না হওয়ায় নিহতদের পরিবার, তাবলিগ সংশ্লিষ্ট আলেম ও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ বাড়ছে।

২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থী শুরায়ে নেজাম এবং সাদপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় কয়েকজন মুসল্লি নিহত এবং অনেকে আহত হন। পরে এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ, সংঘর্ষের পেছনে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের নামও। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, রেজানুর রহমান তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংঘর্ষের আগে-পরে তার ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর টঙ্গী পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদী পক্ষ।

বাদী পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত শেষ হয়নি এবং আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, মামলার তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে এবং নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে তাবলিগ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মহল বলছে, ইজতেমার মতো ধর্মীয় ও জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। তাদের আশঙ্কা, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা থাকলে ভবিষ্যতে একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, মামলার তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করাই এখন প্রধান বিষয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

ইজতেমা মাঠের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা এই হত্যা মামলা এখন দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

আফিল গ্রুপের নামে ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে প্রতারণার অভিযোগ

প্রাথমিক বৃত্তিতে সাংবাদিকপুত্র তাহাব্বিরের সাফল্য

প্রায় পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দর কর্মচারী সংঘে নির্বাচনের উদ্যোগ

পুদিনা পাতার উপকারিতা

মারা গেলেন দক্ষিণী খলনায়ক এসআই রাজশেখরন

১ আগস্ট থেকে টাইফয়েড টিকা পাবে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা

ভিসা আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা

ঈশ্বরদীতে একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বন্ধ

মহেশপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

টানা বর্ষণে কেশবপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বৃত্তি পেল মোরেলগঞ্জের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মাইশা

শালিখায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

ইজতেমা সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে সরব ওলামা-মাশায়েখ, দ্রুত বিচারের দাবি

অর্থনৈতিক সংকটের ওপর বন্যার নতুন আঘাত

সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা: ভোগান্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

মহেশপুরে বিজিবির উদ্যোগে এক’শ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

X