
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আজ ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ এই পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। গোপন ব্যালটে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভোটাভুটি হয়।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের বর্তমান (৮০তম) অধিবেশনের সভাপতি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘রেসিপ্রোক্যাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট (একে অপরকে ভোট দিতে পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতামূলক চুক্তি)’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আগেই জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০টিরও বেশি সদস্যের সমর্থন আদায় করতে পেরেছিল।
আঞ্চলিক পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস একই গ্রুপ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, যদিও সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও এর বিভিন্ন কমিটিতে নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের সুবিধার্থে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো— আফ্রিকান গ্রুপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ, পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় গ্রুপ এবং পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য গ্রুপ।
পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে আফ্রিকান ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপে ভোটের সংখ্যা বেশি। মাত্র তিন মাসের প্রচারণায় বাংলাদেশ নানা কূটনৈতিক কৌশলে আফ্রিকান ভোট টানার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর ভোট পেতে চীনের সমর্থনও চেয়েছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় এবং পশ্চিম ইউরোপীয় গ্রুপ থেকেও ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ। পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ থেকেও কিছু ভোট এসেছে।
চলতি বছরের একদম শুরুর দিকে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে এই পদের জন্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল সরকার। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থী করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক।
এর আগে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন