
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রনাথের গান বাঙালির প্রেরণার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও উগ্রবাদের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্র-দর্শনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (০৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অবিস্মরণীয় প্রতিভা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ, প্রেম, প্রকৃতি ও মানবতার জয়গান ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীলতার মূল ভিত্তি। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলার মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবনবোধকে অসাধারণ শিল্পরূপে প্রকাশ করেছেন, যা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের যুক্তিবাদী চিন্তা ও মানবকল্যাণমূলক দর্শন আন্তর্জাতিকতার চেতনাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন মানবতার কল্যাণেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
জাতীয় জীবনে রবীন্দ্রনাথের অবদান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রসংগীত ছিল স্বাধীনতাকামী মানুষের সাহস ও অনুপ্রেরণার শক্তি। বাঙালির সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা এবং জীবনের গভীর অনুভূতি রবীন্দ্রসাহিত্যে বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের রচিত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বজয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন ১৯১৩ সালে, গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ রচনার জন্য নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করেন। তিনি আমাদের সংস্কৃতির বহুত্ববাদ, অহিংস মতাদর্শ ও বাংলার মরমি-ভাববাদী চেতনার সমন্বয় সাধন করে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেন পরম মমতায়।
বর্তমান বিশ্বে চলমান যুদ্ধ-সংঘাত, বীরের রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারায় ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত পরিস্থিতি, উগ্রবাদের উত্থান, জাতিতে জাতিতে হানাহানি— এসবের কারণে রবীন্দ্রনাথ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রত্যক্ষ কল্যাণ কামনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে ভেবেছেন। শিশুসহ নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন শান্তিনিকেতন। সেসঙ্গে তিনি পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যাবহারিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার ক্ষেত্রে চিরকাল বিশ্বের জানালাকে খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।’
মন্তব্য করুন