
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয় বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকারের আলোকে সাধারণ জনগণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।
ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, আজ আমরা কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একত্রিত হয়েছি। দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন অবহেলার মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক সময় নিরুৎসাহিত ও বঞ্চিত থাকেন। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকারের জন্য সাধারণ মানুষ প্রতিদিন সংগ্রাম করছে। দেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশই জনগণকে সরাসরি বহন করতে হয়, ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো—কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা এলাকার কেউ যেন আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। নবজাতক থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই যেন সহজে ও দ্রুত চিকিৎসা পান, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জটিলতার চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, এই এলাকার মানুষ মূলত শহরের অর্থনীতি সচল রাখছেন, পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু এরপরও অনেকেই চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা উদ্বেগজনক।
তিনি জানান, এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে। হাসপাতালের সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
এর আগে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন করেন। পরে আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত করার নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ডা. জোবাইদা রহমানের উপস্থিতি জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে দ্রুত গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা হয়েছে, যা গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন