
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত গেজেট মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য নুসরাত তাবাসসুম যথাযথভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
তিনি বলেন, গতকাল তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ তার নামে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতে এই আসন নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সরকারি চাকরি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময়ের মাত্র ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দিলে শুরুতে তা গ্রহণ করা হয়নি।
পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়ন গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ইসি তার মনোনয়ন গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই শেষে ২ মে বৈধ ঘোষণা করে।
এরই মধ্যে প্রার্থীতা ফিরে পেতে মনিরা শারমিন আদালতে রিট করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় যে, আদালতের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন নুসরাতের গেজেট প্রকাশ করা না হয়। তবে গতকাল সোমবার (৪ মে) মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা ওই রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বেঞ্চের এক বিচারপতি এবং রিট আবেদনকারী একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় রিটটি শুনানির জন্য অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোট একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বণ্টন করে দেয়। নুসরাত-মনিরার আসনটি ব্যতীত বাকি ৪৯টিতে ৪৯ জনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে তারা শপথ নিয়েছেন। এখন ৫০তম সদস্য হিসেবে মনিরা শপথ নেওয়ার অপেক্ষায়।
মন্তব্য করুন