
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই ইস্যুটি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন দিনের সরকারি সফরে দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি-এর সঙ্গে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার পর ২১ নভেম্বর প্রথমবার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই অনুরোধ জানায়। তবে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ও কামাল ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
এই সফরে শুধু প্রত্যর্পণ নয়, আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে:
* হত্যা মামলার আসামি প্রত্যর্পণে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য * বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সম্ভাবনা * ডিজেল ও সার সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ
এছাড়া, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে ‘গঠনমূলক সম্পর্ক’ এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন