মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হচ্ছে

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হচ্ছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশ।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বলপ্রয়োগ ও গণহত্যার অভিযোগে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-এর অধীনে জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে। এতে বলা হয়েছিল, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র জানায়, অধ্যাদেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী ধরনের শাস্তি হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তবে নতুন আইনে এ বিষয়টি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম চালালে ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংসদে বিল পাসের সময় এই ধারাগুলো যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষ কমিটি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করে অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করেছে। মন্ত্রণালয়ও অধ্যাদেশটি পাসের পক্ষে মত দিয়েছে এবং শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অধ্যাদেশটি কিছু সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ গত ১৩ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়। ওইদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই বাছাই করে সংসদে রিপোর্ট আকারে পেশ করে। গত বৃহস্পতিবার কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলো ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে পাস না হলে কার্যকারিতা হারাবে। যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’, যার বলে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়।

গত বছরের ১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে নতুন কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

X