
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর-এ স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ৮/এ রোডে নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশ।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের করা সেই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এই একই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মজীবনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে টানা চারবার এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন ছিলেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের টিকিটে রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
৫ আগস্টের পর থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসম্মুখে খুব একটা না আসলেও তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল।
মন্তব্য করুন