
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তিন দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ শুভেচ্ছা সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন গতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের সময় খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এই বৈঠকগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের আলোচনায় ভিসা সহজীকরণ, জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল বা প্রত্যাহার, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশেষ করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও পারস্পরিক সুফলের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো স্বাভাবিক ও গতিশীল করার দিকেই জোর দেওয়া হবে।
এই সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সফর শুরু হবে। পরদিন ৮ এপ্রিল তিনি এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। একই দিনে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং জ্বালানি মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
দিল্লি সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দেবেন।
জানা গেছে, ৯ এপ্রিল সকালে দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি এবং এস জয়শঙ্কর একই সঙ্গে মরিশাস যাবেন। সেখানে ১১ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সামুদ্রিক কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।
মন্তব্য করুন