
রাজধানীতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর হঠাৎ আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই বেড়ে যায়। এ সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, লিংক রোড, গুলশান ও ভাটারা এলাকায় বজ্র-সহ শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। শিলার আকার বড় না হলেও রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের দ্রুত আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল (বিডব্লিউওটি) জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’ সক্রিয় হওয়ার কারণে এই বৃষ্টি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৩ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিবলয় সক্রিয় থাকতে পারে, যার মধ্যে ১৬ মার্চ তীব্রতা সর্বোচ্চ অনুভূত হবে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে দেশের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু এলাকায় দীর্ঘসময় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৬০–৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে এবং মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রপাত ও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর সামান্য উত্তাল থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চৈত্র মাসের এই বৃষ্টি কৃষি খাতের জন্য উপকারী। বিডব্লিউওটির মতে, দেশের প্রায় ২৫–৩৫ শতাংশ এলাকার সেচের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। আবহাওয়া অধিকাংশ সময় মেঘলা থাকায় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকবে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির বিরতির সময় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের সামান্য ঝুঁকি রয়েছে, তবে কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া অধিদফতরও দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
মন্তব্য করুন