
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সঙ্গে নির্বাচনের পূর্ব অঙ্গীকার পূরণে অগ্রগামী। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড হচ্ছে শক্তি। এটি নারী ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষমতায়িত করবে এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়ানোর সুযোগ দেবে।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদরাসা মাঠে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধুমাত্র আর্থিক সুযোগ সুবিধা নয়, এটি নারীকে পরিবারের প্রধান হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। পুরুষরা অনেক সময় মা-বোনদের গুরুত্ব বোঝে না, কিন্তু কার্ড ও অর্থ আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা বুঝতে শুরু করবে, মন্ত্রী যোগ করেন।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, জনগণের শক্তির কাছে আর কোন শক্তি বড় নয়। সারা দেশের মধ্যেই মাত্র ১৪ ইউনিয়নে আমরা প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যকর্ম শুরু করেছি। তবে মা-বোনেরা সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এমনকি জেলা প্রশাসক (ডিসি) তিনিও পাবেন যেহেতু তিনি নারী। এই কার্ড প্রত্যেক ঘরে ঘরে যাবে শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের বলেছিলাম এটাই আমার শেষ নির্বাচন এবং আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের এই ঋণ শোধ করার ভাষা আমার জানা নেই। আপনাদের সমস্যা সমাধান করে আমি এই ঋণ শোধ করতে চাই। আপনারা জানেন এরই মধ্যে একটি মেডিকেল টিম এসেছিল। ইনশাল্লাহ আগামী অর্থবছরে মেডিকেলে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি শুরু হবে। আমাদের ইউনিভার্সিটির আইন হয়ে গেছে, এখন শুধু ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ করে জায়গা নির্ধারণ করে সেটাও চালু হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ এবং এয়ারপোর্টও চালু হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আলোচনা করেছি। এই অঞ্চলে কৃষক বেশি। এখানে কৃষি-কাজ বেশি হয়। অন্য কোনো কাজ তেমন নেই, কলকারখানা নেই। কৃষিই একমাত্র মূল চাকা। তাই আমাদের কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে এলাকার কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আরেকটা কথা বলেছিলাম, সেটা হলো আমাদের শিক্ষিত ছেলে-মেয়ের আইটি ট্রেনিং দিতে চাই। যাতে তারা ঘরে বসে মাসে ২/৩ লাখ টাকা আয় করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাদক। আমাদের যুবক ছেলেরা মাদকের ঝুকে যাচ্ছে। ভুল পথে চলে যাচ্ছে। এজন্য শুধু পুলিশ-প্রশাসন নয় আপনাদেরকেও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মা-বাবাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাইকে মাদককে না বলি।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমার শেষ কথা। আপনারা হতাশ হবেন না। সে কার্ড পেল, আমি কেন পেলাম না- এটা ভাববেন না। আপনারা সবাই পাবেন, শুধু একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আপনারা এটুকু বিশ্বাস করেন আমাদের আর অন্য কোনো ইস্যু নেই। অন্যদের মতো ঢাকায় বাড়ি, এমনকি বিদেশে গিয়েও বাড়ি-গাড়ি করব না। যতদিন আছি শুধু জনগণের কাজ করে যাব।
মন্তব্য করুন