
অগ্নিঝরা মার্চের চতুর্থ দিন আজ। এর আগের দিন ৩ মার্চ যশোরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। সেই সাথে রাজনীতিতে সৃষ্টি হওয়া আলোড়ন মুখ থেকে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
৩ মার্চ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অসহযোগ আন্দোলনে যশোরে প্রথম শহীদ হন চারুবালা কর নামে এক নারী। এদিন যশোরে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী গুলি চালায় শহরের টিএন্ডটি এলাকায়। এতে চারুবালা কর নিহত হন।
সেদিন তার লাশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ মিছিল করে যশোর কালেক্টরেট ঘেরাও করে। সে সেময়ের অসহযোগ আন্দোলনে আলোড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনা নিয়ে পরদিন ৪ মার্চ তুমুল আলোচনা হয়। আর ওদিকে তৎকালীণ ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান, রবিউল আলম, গাজী আব্দুল হাইসহ সব ছাত্রনেতাকে ধরতে অভিযান চালায় পাকিস্তানি বাহিনী।
১৯৭১-এর অগ্নিঝরা মার্চের দিন যতই যাচ্ছিল এক দফার দাবি অর্থাৎ স্বাধীনতার আকাঙ্খার তীব্রতা ততই বাড়ছিল। দ্রোহ-ক্ষোভে বঞ্চিত শোষিত বাঙালি তখন ক্রমেই ফুঁসে উঠছিল ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে।
৪ মার্চ ছিল দেশব্যাপী লাগাতার হরতালের তৃতীয় দিন। গণবিক্ষোভে টালমাটাল ছিল এদিনটি। ফলে ঢাকাসহ সাড়া দেশ অচল হয়ে পড়ে। এদিন সামরিক জান্তার সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। ‘রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ঢাকা বেতারকেন্দ্র’। আর সেই ঘটনা চলমান আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। যা আমাদের মুক্তির পথকে এগিয়ে নেয়।
অন্যদিকে ৪ মার্চে খুলনায় বাঙালী-অবাঙালীর মাঝে হয় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। একই সঙ্গে ওইদিন পূর্ব পাকিস্তান মহিলা পরিষদের নেত্রী কবি সুফিয়া কামাল ও মালেকা বেগম যৌথ বিবৃতিতে ৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে আন্দোলনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন ৭ মার্চের জনসভা সফল করার জন্য। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) চলতে থাকে জনসভার প্রস্তুতি।
মন্তব্য করুন