মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

অগ্নিঝরা মার্চ

কাগজ সংবাদ
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০১ এএম
অগ্নিঝরা মার্চ

অগ্নিঝরা মার্চের তৃতীয় দিন আজ। একাত্তরের এই দিনে একটি জনসভায় প্রথম স্বাধীনতার কথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি মরে গেলেও ৭ কোটি মানুষ দেখবে দেশ সত্যিকার স্বাধীন হয়েছে। হয়ত এটাই আমার শেষ ভাষণ। আমি যদি নাও থাকি আন্দোলন যাতে থেমে না থাকে, স্বাধীনতার আন্দোলন যাতে না থামে।’ পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বঙ্গবন্ধু এদিনের জনসভায় স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি এনেছিলেন। যদিও জোরালোভাবে তা উচ্চারিত হয় ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে। জনসভায় বঙ্গবন্ধু ‘স্বাধীনতা’র কথা বলায় উদ্বেলিত মানুষ ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, গ্রামে গ্রামে দুর্গ গড়, মুক্তিবাহিনী গঠন কর’ ইত্যাদি সেøাগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলন শুরু হয়, তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। দিন যতই গড়াচ্ছিল স্বাধীনতার প্রশ্নে মুক্তিপাগল বাঙালি জাতির আন্দোলন ততই অগ্নিগর্ভ রূপ নিচ্ছিল। একদিকে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলনে স্থবির গোটা বাংলা, অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা কার্ফু দিয়েও আন্দোলন থামাতে পারছিল না। অনেকস্থানেই অহিংস আন্দোলন সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নিতে শুরু করে।

একাত্তরের ৩ মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের উদ্যোগে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এ সভায় বঙ্গবন্ধুকে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। জনসভায় বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ, শ্রমিক নেতা আবদুল মান্নান, ডাকসু নেতা আবদুল কুদ্দুস মাখন। জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘দানবের সঙ্গে লড়াইয়ে যে কোন পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তেইশ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনবোধে বুকের রক্তে গঙ্গা বহাইয়ে দেব। তবু সাক্ষাত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার বীর শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ এ জনসভা থেকে ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ৬টা থেকে ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ৫ মার্চ বায়তুল মোকাররম থেকে একটি লাঠি মিছিল বের করারও কর্মসূচি ঘোষিত হয়।

এর আগে ৩ মার্চ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় পাকিস্তানের নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি বৈঠক ডাকেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যরা ছিলেন পাকিস্তান আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবুর রহমান, পাকিস্তান পিপলস পার্টির জুলফিকার আলী ভুট্টো, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আবদুল ওয়ালী খান প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার এই রাজনৈতিক সভাকে বন্দুকের নলের মুখে ‘নিষ্ঠুর তামাশা’ বলে অবিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।

এদিন যশোরে অসহযোগ আন্দোলনে গুলি হলে টিএন্ডটি এলাকায় নিরীহ জনগণের উপর গুলি চললে চারুবালা কর নিহত হন। সেদিন তার লাশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ মিছিল করে যশোর কালেক্টরেট ঘেরাও করে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X