মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

এক মাসে ১০ বার কেঁপে উঠল দেশ : বড় দুর্যোগের শঙ্কা

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
এক মাসে ১০ বার কেঁপে উঠল দেশ

বাংলাদেশ ও এর আশপাশ অঞ্চলে গত এক মাসে অন্তত ১০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। গড় হিসাব অনুযায়ী প্রায় প্রতি দুই দিনে একবার করে এই অঞ্চলে কম্পন হচ্ছে, যা জনমনে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ করে সম্প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প এবং এর আগে গত নভেম্বরে নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার কম্পন মানুষের মধ্যে বড় দুর্যোগের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি কম্পনের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, ভূগর্ভস্থ প্লেট বাউন্ডারিতে প্রতিনিয়ত শক্তি সঞ্চিত হয়। এই শক্তি জমা হতে হতে যখন আর জায়গা পায় না, তখন তা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। বারবার এমন ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন হওয়ার অর্থ হলো সেখানে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় দুর্যোগের এই পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে ভবন মালিকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নিয়মিত ভবন পরীক্ষা বা ‘বিল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট’ করা এখন সময়ের দাবি।

ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন এই অঞ্চলে ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এবং খুব কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া বড় প্লেট বাউন্ডারি ও ফল্ট লাইনগুলোতে প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। এমনকি ২৫০ থেকে হাজার বছরের ব্যবধানে ৮ মাত্রার অধিক শক্তিশালী কম্পনও ফিরে আসতে পারে।

সবশেষ ১৯৩০ সালে এই অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যার পর প্রায় ৯৬ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে সঞ্চিত শক্তির বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি।

দেশের বর্তমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় চরমভাবে অপর্যাপ্ত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে, যার ৩০ শতাংশই ছয় তলার চেয়ে উঁচু। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। সারা দেশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা অগণিত।

এ প্রসঙ্গে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, সাম্প্রতিক ছোট ছোট কম্পন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়েও বেশি চিন্তার বিষয় হলো অতীতে হয়ে যাওয়া বড় ভূমিকম্পগুলোর পুনরাবৃত্তি। বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এখন থেকেই সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকম্প সহনীয় নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X