
বছর ঘুরে আবারও ফিরে আসছে বাঙালির চেতনার উৎস একুশে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
মূল বেদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে দৃষ্টিনন্দন আলপনা অঙ্কন—সব মিলিয়ে কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর পুরো এলাকা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন অঞ্চলজুড়ে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ।
মূল চত্বরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে আলপনা আঁকায় ব্যস্ত রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। তাদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও বর্ণমালার সৌন্দর্য।
মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল কাঠামো ও বেদি ধুয়ে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশে সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, কাঠামোগত কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
রং সম্পন্ন হওয়ার পর মিনারের পেছনে স্থাপন করা হবে প্রতীকী লাল সূর্য—যা ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ ও নতুন প্রভাতের প্রতীক।
শুধু মূল মিনার নয়, আশপাশের দেয়ালেও চলছে বর্ণমালা অঙ্কন ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক গ্রাফিতি তৈরির কাজ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এসব শিল্পকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রদ্ধা জানাতে রাত থেকেই মানুষের ঢল নামবে শহীদ মিনারে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম তৈরির কাজ চলছে।
আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ফুল হাতে মানুষের স্রোত নেমে আসবে শহীদ মিনারে। মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদরা সিক্ত হবেন কোটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায়।
অমর একুশে কেবল একটি দিন নয়—এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম ও ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভাষা শহীদদের অমলিন ত্যাগের কথা।
২০২৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন প্রায় সম্পন্ন। অপেক্ষা শুধু প্রভাতের, যখন ফুলে ফুলে ভরে উঠবে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।
মন্তব্য করুন