
ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন তার এক গ্রন্থে বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাৎক্ষণিকভাবে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলাম আমি। সে জন্য আন্দোলনের ব্যাপারে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় আমাকে।
বায়ান্ন সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের একটি সভা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের ছাত্ররা তাতে অংশ নেন। সভায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকও উপস্থিত ছিলেন। সভায় সব ছাত্র বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। শামসুল হক একা এতে দ্বিমত জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘সামনে নির্বাচন। এখন আন্দোলন করলে নির্বাচন নাও হতে পারে।’ সভায় উপস্থিত কোন ছাত্রই তার কথা শোনেননি।
জাকির হোসেন (একুশের কবিতা সঙ্কলন) ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের একান্ত সাক্ষাতকার নিয়েছেন। ওই সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন নিয়ে আব্দুল মতিন স্মৃতিচারণ করেছেন। পাকিস্তান শাসকদের সব চক্রান্ত রুখে বাঙালী সে দিন নিজের অধিকার আদায় করে নিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অনেক অর্জন আছে। দুঃখজনক হলো, এত বছর পরেও সর্বস্তরে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা চালু হয়নি। বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার মুক্তি ঘটে সত্য। তবে এখনও এ ভাষার যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলা ভাষা নিয়ে যথাযথ গবেষণা হচ্ছে না। ভাষা সৈনিকদের যথাযথ মূল্যায়নও এ দেশে হয়নি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসও বিকৃত হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে একুশের প্রভাতফেরি সংস্কৃতি।
মন্তব্য করুন