
নির্বাচনের পর কোন দল সরকার গঠন করবে—সাধারণত এটি নির্ভর করে সংসদে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তার ওপর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে বলে নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ফল ঘোষণার পরই সামনে এসেছে নতুন প্রশ্ন: নতুন সরকারের শপথগ্রহণ কীভাবে হবে, বিশেষ করে যখন সংসদ ও স্পিকার নেই।
শপথের সময়সীমা সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করা আবশ্যক। তবে বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিক নয়; গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই সময়সীমা কার্যকর হয় না। ফলে ভোটগণনার পর কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। সরকারি সূত্র বলছে, সব প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই শপথগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
স্পিকার না থাকলে কে পড়াবেন শপথ? অতীতে সংসদ সদস্যদের শপথ সাধারণত স্পিকারই পড়িয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কার্যকর না থাকায় বিকল্প সাংবিধানিক ব্যবস্থাই ভরসা। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে দুটি পথের কথা বলা আছে—
রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতির মতো কোনো সাংবিধানিক পদধারীকেও মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ে মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পরিচালনা করবেন।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলও দ্রুত শপথ আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে দীর্ঘসূত্রতা না তৈরি হয়।
সরকার গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে? শপথের পরবর্তী ধাপ হলো সরকার গঠন। এখানে মূল ভূমিকা রাষ্ট্রপতির। যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে—অর্থাৎ সংসদের অর্ধেকের বেশি সদস্যের সমর্থন যার পক্ষে—রাষ্ট্রপতি সেই দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি প্রথমে সংসদ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
ক্ষমতা হস্তান্তর কখন কার্যকর হয়? সংবিধান বলছে, যেসব পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ আবশ্যক, সেখানে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই নতুন সরকারের ক্ষমতা কার্যকর হয়ে যায় এবং আগের সরকারের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
সব মিলিয়ে, সংসদ ও স্পিকারের অনুপস্থিতি কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও সংবিধানে নির্ধারিত বিকল্প ব্যবস্থার কারণে শপথ ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া থেমে থাকার সুযোগ নেই—বরং নির্দিষ্ট ধারার মধ্য দিয়েই দ্রুত নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণের পথ উন্মুক্ত থাকে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্তব্য করুন