
মাতৃভাষা বাংলাকে নিয়ে কবি সিকান্দার আবু জাফর তার ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ কবিতার শেষ লাইনগুলোতে লিখেছেন ‘অতীতের কোন নির্বাক একদার/ দেশের লোকের গর্ব গৌরবের/ অশ্রু এবং রক্ত দানের/ ক্ষয়ে ঝরে-যাওয়া প্রেরণা মূল্য/ নিখিল জীর্ণ নিষ্প্রভ ইতিহাস/ একুশে ফেব্রুয়ারি।’ কবি সাহিত্যিকরা মায়ের ভাষায় সেই সময় থেকেই অজস্র সাহিত্য রচনা করে আসছেন।
এমএ বার্ণিক রচিত ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’- ঘটনাপ্রবাহ ও পরিপ্রেক্ষিত বিশ্লেষণ’ গ্রন্থে ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানী সরকার গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে তার একটি চিত্র ফুটে ওঠেছে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পক্ষে ১৩ ফেব্রুয়ারি জোরালো বক্তব্য রাখার কারণে পত্রিকাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
পত্রিকাটি ১৯৫২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দীন সম্পর্কে এক সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছিল। ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল- ‘ইসলামের তৃতীয় খলিফা অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎলোক ছিলেন। কিন্তু নির্লজ্জ আত্মীয়তোষণের অপরাধে অপরাধী ছিলেন। তার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব যাদের দাবি আদৌ বিবেচনার যোগ্য ছিল না। তিনি তাদেরই নানারূপ ক্ষমতার অধিকারী করেছিলেন।
খাজা নাজিমুদ্দীন ধার্মিক মুসলমান এ কথা কেউই অস্বীকার করবেন না, কিন্তু তিনি যেন নিজেকে দ্বিতীয় ওসমান-বিন-আফফান প্রমাণিত না করেন আমরা এ আশা এবং প্রার্থনাই করি।’
এ সম্পাদকীয় প্রকাশের পর পত্রিকার সম্পাদক আব্দুস সালাম ও প্রকাশক হামিদুল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।
মন্তব্য করুন