মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...

কাগজ সংবাদ
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...

যে স্বাধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘তোমার-আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ হয়ে উঠেছিল, তার বীজ রোপিত হয়েছিল এই ফেব্রুয়ারিতে বুড়িগঙ্গা তীরে। আজ শুরু হচ্ছে সেই মাস। আজ থেকে মাসজুড়েই দেশের আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হবে সেই অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি...।’

মায়ের মুখের ভাষা বাংলাকে আপন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলা মায়ের বীর সন্তানরা ১৯৫২ সালের এই মাসে গড়ে তুলেছিলেন এক অগ্নিঝরা আন্দোলন। বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভাষার অধিকার।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরে বাঙালির ভাষাগত মর্যাদা ও মননের প্রধান প্রতীকে পরিণত হওয়া শহীদ মিনারও এখন ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের বাইরেও। বিশেষত, গঙ্গাপারের পশ্চিমবঙ্গ, গোমতী-বিধৌত ত্রিপুরা, ব্রহ্মপুত্রের কন্যা অসম, সোমেশ্বরী বা সিমসাং ঘেরা মেঘালয়, সুবর্ণরেখা সজ্জিত ঝাড়খন্ড, গোদাবারি গর্বিত ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জনপদে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে শহীদ মিনার।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পর বিভক্তি ও বিভেদ কমতে থাকে। রাজনৈতিক সীমারেখার দু’পাশে থাকা একই ভাষার বাঙালী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়তে থাকে। বাঙালীর প্রথম রাষ্ট্র বাংলাদেশের বাইরে থাকা বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর জন্যও গৌরবের বিষয় হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বুড়িগঙ্গা পাড়ের ঢাকায় ও বরাক পাড়ের শিলচরে যে দামাল তরুণরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, তারা হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় পরিচয়- নির্বিশেষে সকল বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর নায়ক। শ্রদ্ধা, শোক ও পুষ্পে পুষ্পে তারা স্মরিত হতে থাকে বাংলাদেশের বাইরে ভারতের বাঙালী অধ্যুষিত জনপদগুলোতেও। নির্মিত হয় স্থায়ী শহীদ মিনারও।

বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে বাকি বিশ্বে সগৌরবে মাথা উঁচু করছে বাংলা ভাষার শহীদ মিনার। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের টেমস নদীর তীরের লন্ডন, ফ্রান্সের ক্রুজে নদী তীরবর্তী বারি, ইতালির টেভেরে নদী তীরবর্তী রোম, জাপানের সুমিদা তীরবর্তী টোকিও, কানাডার হাম্বার তীরবর্তী টরন্টো, অস্ট্রেলিয়ার পারামাটা তীরবর্তী সিডনিতে তৈরি হয়েছে স্থায়ী শহীদ মিনার। পটোম্যাক পাড়ের যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধশতাধিক শহরসহ পদ্মাপাড়ের বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন বাঙালী অধ্যুষিত জনপদে ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় অস্থায়ী শহীদ মিনার।

ভাষার জন্য বুড়িগঙ্গাপাড়ের দামাল সন্তানদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আবেগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলেছে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ঘোষণা করে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে।

বাঙালীর একান্ত গর্ব ও শোকের ঘটনাটি কেবল বাংলা ভাষা নয়, আদায় করে বিশ্বের সব মাতৃভাষার জন্য স্বীকৃতি। যে দিবস বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীরাই পালন করত, এখন তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রে। স্মরিত হয় বাংলা ভাষার শহীদ ও সংগ্রামীরা।

আমাদের শহীদ মিনার স্থান পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাসংক্রান্ত জাতিসংঘের অফিসিয়াল সাইটে। নিজের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি বিশ্বের সব জাতি এখন মনে রাখে বাংলা ভাষাকেও।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

X