
সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকে ইসরায়েলের তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’ স্বীকৃতির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাতে ওআইসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের (সিএফএম) ২২তম জরুরি অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় বাংলাদেশ ওআইসি’র সম্মিলিত অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একাত্ম।
এই জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয় ইসরায়েলের তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’ স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে ফেডারেল রিপাবলিক অব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার জন্য। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতিও বৈঠকে গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হয়।
বৈঠকে হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যে মো. তৌহিদ হোসেন ওআইসিকে ইসরায়েলের এই একতরফা সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ দৃঢ়তার সঙ্গে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ওআইসি’র পূর্ণ ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার অনুরোধ করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, অবৈধ আলোচনা বা উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতাই একতরফাবাদ ও জবরদস্তির ওপর সর্বদা প্রাধান্য পাবে।
এর আগে, সকালে ওআইসি’র জরুরি অধিবেশনের প্রস্তুতিমূলক সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অব্যাহত সংহতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং ওআইসি’র কার্যক্রমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর কেন্দ্রীয় গুরুত্ব আবারও তুলে ধরা হয়।
মন্তব্য করুন