
কলকাতার রাজরহাট এলাকার ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়ার ঝনঝন গলির একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার এ-থ্রি ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি রাতেও তাকে ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করতে দেখা যায়।
যদিও ঘটনাস্থলে বাপ্পিকে সরাসরি পাওয়া যায়নি, তবে ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলানগর থানার পলাতক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মুশফিকুর রহমান উজ্জ্বল, একই থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি সজিবুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ।
এই নেতারাই নিশ্চিত করেছেন যে, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বাপ্পি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা পুলিশ পরিচয়ে ওই এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তবে এ বিষয়ে নারায়ণপুর থানা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক ছিলেন বাপ্পি। রূপনগরের কাউন্সিলর কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট তিনি সেখানে এসেছিলেন।
৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। রূপনগরে কাউন্সিলর কার্যালয়ের কর্মরতরা জনান, সবশেষ ২৪-এর ৩ আগস্ট এখানে এসেছিলেন তিনি।
রূপনগরের মিল্কভিটা রোডে চৌধুরী ভিলায় গেলে দেখা হয় বাপ্পির মায়ের সাথে। যদিও তিনি দাবি করেন, ছেলে এমন অপরাধে জড়িত নন। তিনি বলেন, মানুষ তো অনেক কিছুই বলে। মোবাইলে অনেক কিছু ছড়িয়ে দেয়। মূলত, বাস্তবতা কেউ দেখে না। আমি এটি বিশ্বাস করি না যে, আমার ছেলে এটির সাথে জড়িত।
হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটে বাপ্পিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিবি পুলিশ। যদিও এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ি দখল, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বাপ্পী। সে মূলত ইলিয়াস মোল্লার ছত্রছায়ায় এগুলো করেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত. শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরসহ সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারে কার্যকর উদ্যোগ নেবে রাষ্ট্র।
মন্তব্য করুন