
বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও একোসিস্টেম বিষয়ে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণা চালিয়েছে গবেষণা জাহাজ আর ভি ড. ফ্রিডটজফ নানসেন, যা ২১ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সমুদ্র ও জলজ জীববৈচিত্র্য নিয়ে জরিপ পরিচালনা করেছে।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জরিপে নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণি শনাক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের সংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইকোসিস্টেমে অমিলের ইঙ্গিত। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলছেন, এটি মূলত ওভারফিশিংয়ের ফলাফল।
গভীর সমুদ্রে দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিক দূষণ পাওয়া গেছে, যা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় গভীর ও স্বল্প গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে, ২৭০-২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার টার্গেটেড ফিশিংয়ের মাধ্যমে মাছ আহরণ করছে।
মৎস্য উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন, এইভাবে টার্গেটেড ফিশিং চালিয়ে গেলে বঙ্গোপসাগরে মাছের সংরক্ষণ হুমকির মুখে পড়বে। সোনার ফিশিং নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশে ডিপ সি ফিশিংয়ের টুনা মাছের আধিক্য পাওয়া গেছে এবং এর সম্ভাবনাও আছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও আছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি; এমনকি সম্পদের পরিমাণ কী, সম্ভাবনা কেমন তাও জানতে পারিনি। আমাদের এ সম্পদকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন হবে।’
বৈঠকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণা সমন্বয় করতে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে তাদের সাথে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’
মন্তব্য করুন