
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। নতুন সংশোধনী আইন বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ কে আরো শক্তিশালী করেছে।
আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদান, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পুরনো অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি একীভূত আইন প্রণয়ন, এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা।
১. তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ: এবারের অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, Electronic Nicotine Delivery System (ENDS), Heated Tobacco Product (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সকল উদীয়মান তামাকজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকার যেকোনো নতুন পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়া নিকোটিন এবং নিকোটিন দ্রব্যের পৃথক সংজ্ঞা এবং পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
২. পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাক ব্যবহার নিষিদ্ধ: সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করা হয়েছে।
৩. বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাক বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, প্রচারণা, সিএসআর কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার, এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা প্রদানও নিষিদ্ধ।
৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশেপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটার মধ্যে তামাক বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ: উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
৬. কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ: উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; পূর্ববর্তী Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।
৭. আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ: তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৮. স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং: তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে ৭৫% জায়গায় রঙিন ছবি ও সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৯. শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার: জরিমানা ও কারাদণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ, এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন