
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জেলখানা এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এই ভোটাররা ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং’ (ICPv) পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোট দিতে পারবেন।
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোটার তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করবে এবং নিবন্ধনের জন্য বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (https://prisoner.ocv.gov.bd/login) ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি জেলখানা বা হেফাজতে আটক কেন্দ্র থেকে দুজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন পাবেন যারা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
নিবন্ধনের পর, প্রিন্টকৃত ভোটার তালিকা সিল ও স্বাক্ষরসহ ইসিতে পাঠানো হবে। মনোনীত প্রতিনিধি ভোটারদের তথ্য (.xls/.csv ফরম্যাট) নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করবেন। নিবন্ধিত ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট খাম পাবেন, যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দুটি আলাদা ব্যালট, ভোট প্রদানের নির্দেশাবলি, ঘোষণাপত্র এবং রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা থাকবে।
ভোটের জন্য জেলখানা বা হেফাজত কর্তৃপক্ষ গোপন কক্ষে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। পোস্টাল ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম থাকবে না, বরং বরাদ্দকৃত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে। ভোটাররা সংসদীয় আসনের প্রার্থীর প্রতীকের পাশে টিক (√) বা ক্রস (×) চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। গণভোটের ক্ষেত্রে হ্যাঁ/না-এর পাশে একইভাবে চিহ্ন প্রদানের মাধ্যমে ভোটদান সম্পন্ন হবে।
ভোটাররা ব্যালট দেওয়ার আগে ঘোষণাপত্রে নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে স্বাক্ষর করবেন। স্বাক্ষর করতে অক্ষম ভোটারের ক্ষেত্রে অন্য একজন ভোটার সত্যায়ন করবেন। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট দুটি ছোট খামে রেখে বড় খামে সিল করে নির্ধারিত স্থানে জমা দিতে হবে।
ভোট প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পোস্টাল ব্যালট খাম সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ ও ডাক বিভাগের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো ডাক মাশুল প্রদান করতে হবে না; সরকার এই খরচ বহন করবে।
মন্তব্য করুন