
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় প্রথম আলো ও ডেইলিস্টার ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং ছায়ানট ও উদীচির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের হামলা এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা জনমনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে টার্গেট কিলিং এবং গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে কিছু গোষ্ঠী মাঠে নামানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত একবছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড মেরামত এবং হিংসার ঘটনা রোধে তিনি আগের মতো তৎপর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশের ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখছে। কিছু আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইনকিলাব মঞ্চসহ কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবি তুলেছে।
এছাড়াও, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর প্রতি আস্থা রেখেছেন। উপদেষ্টা পরিষদে কোনো পরিবর্তন বা নতুন সদস্য সংযোজনের সম্ভাবনা নেই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদও নিশ্চিত করেছেন, উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন হচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দায়িত্বে থাকায় অনেক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদে কোনো পরিবর্তন হবে না এবং তিনি জাতীয় নির্বাচনে সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
এরপরও, শরীফ ওসমান হাদির হত্যার পর তার পদত্যাগের দাবি তীব্র হয়ে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন, “পদত্যাগ করলে এখানে বসতাম না।” বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেনকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ১৭ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন