
মহান স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার করে আসলো বাঙালি জাতি। ৫৫তে পা দেয়া বাংলাদেশের আজ মহান বিজয় দিবস। আজ বাঙালির নতুন স্বপ্ন দেখার দিন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল কালোরাতে পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী শুরু করে নির্মম নিধনযজ্ঞ। এ রাতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বেতার ম্যসেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা। এরপর ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ফের স্বাধীনতার ডাক দেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমান। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত প্রবাসী সরকার শপথ নেয়। দখলদার বাহিনীকে বিতাড়নে বাঙালি শুরু করে অদম্য সংগ্রাম। ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে জীবন দান করে শহীদ হন ত্রিশ লাখ বাঙালি। অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত-সম্ভ্রমের বিনিময়ে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর আসে সেই কাঙ্খিত বিজয়।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির ফসল ১৪ হাজার কিলোমিটার দুরের পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য হলো এই বাংলাদেশ। নাম হলো পূর্ব পাকিস্তান। এ ভূখন্ডের মানুষ ধরে নিয়েছিল, এই বুঝি সেই কাংখিত স্বাধীনতা! কিন্তু না। ভুল শুধরে দিলেন গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ। তিনি ১৯৪৮ সালে ঘোষণা দিলেন, উর্দূই হবে এদেশের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা। বাঙালি সমস্বরে এর প্রতিবাদ জানালো। শুরু হলো ভাষা আন্দোলন। যার ধারাবাহিক আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথ লাল হলো বাঙালির বুকের তাজা রক্তে। ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালালো বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী।
’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ’৫৭-র স্বায়ত্ত্ব শাসন দাবি, ’৬২র ছাত্র আন্দোলন, ’৬৬ তে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবির স্বাধীকার আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এ বিজয় লাভে ১৯৭১ সালের মার্চে দুরন্ত বাঙালি তখন শুধু একটি নির্দেশনার অপেক্ষায়। সে সময় ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যেন ভাষণ নয়, মহাকবি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতাটিই পড়লেন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বললেন, “যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে”। তিনি আরো বললেন, “এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।” এ ভাষণের পর আর বাঙালিকে দমিয়ে রাখা যায়নি।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর পর টানা ৯ মাস শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের দিন আজ। ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ৯১,৬৩৪ সদস্যর মাথা হেঁট করে আত্মসমর্পণ করার দিন আজ। বাংলাদেশ নামক দেশটির বড় বেশী গৌরব, বড় অহংকারের দিন আজ।
মহান বিজয় দিবসে সবার কাম্য, শোষনহীন বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হোক। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন