
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে টেকসইভাবে রক্ষা করতে হলে বনায়নের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা জরুরি। পাশাপাশি দ্রুত কোস্টাল জোন রেগুলেশন প্রণয়ন এবং আলাদা কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর সামরিক জাদুঘরে অনুষ্ঠিত জাতীয় উপকূল সম্মেলন ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।
তিনি জানান, নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে ১০টি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি অনুমোদিত হয়েছে, ৩টি অপেক্ষমাণ এবং বাকি ২টি সংশোধনাধীন। সাধারণত এ ধরনের প্রকল্প দুই বছরের কম সময়ে সম্পন্ন করা কঠিন হলেও সরকারের সদিচ্ছায় অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের একটি বড় অংশ উপকূলীয় এলাকা। যত অর্থই বরাদ্দ দেওয়া হোক না কেন, শুধুমাত্র বাঁধ ও অবকাঠামো দিয়ে সমুদ্রস্ফীতি ঠেকানো সম্ভব নয়। এজন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং কার্যকর কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট রুলস প্রয়োজন, যা বর্তমানে দেশে অনুপস্থিত।
খুলনা শহরের পানিসংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বিকল্প হিসেবে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং স্কিম চালুর প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক সহায়তা নিয়েও কাজ চলছে।
সোনাদিয়া দ্বীপে পরিকল্পিত ড্রেজার প্রকল্প বাতিলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ চিংড়ি ঘের ভাঙতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সোনাদিয়াকে রক্ষা করা গেলে উপকূলবাসীকেও দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের পর্যটননির্ভর ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ও ব্র্যাক কাজ করছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যশোর ও খুলনা অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরে অবৈধভাবে বাঁধের ভেতর পাইপ বসিয়ে পানি নেওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাতক্ষীরা এলাকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং অবৈধ পাইপ অপসারণের কাজ চলমান।
তিনি আরও বলেন, উপকূল রক্ষায় স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি ছাড়া সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যাওয়া কার্যকর হবে না।
মন্তব্য করুন